Marketing Tech News

রেডিট কি এবং কেন ব্যাবহার করবেন? জেনে নিন বিস্তারিত

reddit marketing

আপনি যদি মডার্ন নেটিজেন পার্সন হয়ে থাকেন, তাহলে হয়তো জানেন যে, ফেসবুক,ইন্সটাগ্রাম এবং ইউটিউবের বাইরেও ইন্টারনেটে আরও অনেক জনপ্রিয় এবং বেটার সোশ্যাল মিডিয়া আছে যেগুলোর ব্যাপারে আমাদের দেশে এবং সম্পূর্ণ ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের অধিকাংশ অ্যাভারেজ ইন্টারনেট ইউজাররাই জানেন না। এই ধরনের সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর মধ্যেই অন্যতম একটি হচ্ছে রেডিট (Reddit)। আপনি কখনো রেডিট ভিজিট না করলেও, যদি অ্যাক্টিভ ইন্টারনেট ইউজার হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আপনি রেডিট-এর নাম শুনেছেন। যদি আপনি অলরেডি না জেনে থাকেন যে রেডিট কি এবং কিভাবে ব্যাবহার করতে হয় আর কেনই বা ইউজ করবেন, তাহলে চলুন আজকে রেডিট সম্পর্কে জানা যাক!

রেডিট (Reddit) কি?

আপনি যদি কখনো রেডিট ওয়েবসাইট ভিজিট করে থাকেন, তাহলে আপনি খেয়াল করে থাকবেন যে রেডিট এর ট্যাগলাইন হচ্ছে, The Front Page to the Internet। অর্থাৎ, রেডিট কে ইন্টারনেটের প্রথম পাতা হিসেবে ধরা হয়, বা ধরা না হলেও, ইন্টারনেটের প্রথম পাতা বলতে যদি কিছু থাকে, সেটাই হবে রেডিট। এটি একটি সোশ্যাল মিডিয়া হলেও, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আরও বেশি কিছু।

সত্যি কথা বলতে, যেসব ইন্টারনেট ইউজাররা অ্যাক্টিভলি রেডিট ব্যাবহার করেন এবং অধিকাংশ সময় রেডিটে কাটিয়ে থাকেন, তাদের আপকামিং ইন্টারনেট ট্রেন্ড এবং নিউজ ডিটেক্ট করার ক্ষমতা সবথেকে ভালো। আপনি হয়তো জানেন না, ইন্টারনেটের অধিকাংশ মজার ট্রেন্ডগুলো এবং মিমস, জোকসগুলোর ক্রিয়েশন সবার আগে হয়ে থাকে রেডিট কমিউনিটিতে এবং এরপরে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদিতে ছড়ায়।

রেডিট মূলত অনেকগুলো ছোট ছোট ফোরাম এর সমন্বয়ে তৈরি একটি বড় সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুকের মতো প্রোফাইল তৈরি, পোস্ট করা, ছবি আপলোড করা, লাইক-কমেন্ট-রিয়্যাক্ট করা এইধনের ব্যাপার রেডিটে নেই। রেডিটে বিভিন্নি ধরনের টপিকের জন্য তৈরি বিভিন্ন ধরনের ফোরাম রয়েছে যেখানে ইউজাররা তাদের মিউচুয়াল ইন্টারেস্টের ওপরে বেজ করে বিভিন্ন টপিক নিয়ে ডিসকাস করে থাকেন।

রেডিটের ফোরাম বলতে সাধারন কোন ফোরামকে বোঝানো হয়না। এখানে খুব সাধারন টপিকের জন্য ফোরাম থেকে শুরু করে দুনিয়ার সবথেকে ক্রিঞ্জ, সবথেকে মজার এবং সবথেকে আজব ব্যাপারগুলোর জন্যও আলাদা আলাদা ফোরাম রয়েছে যেখানে আপনি ফোরাম টপিকের সাথে রিলেটেড যেকোনো ধরনের প্রশ্ন-উত্তর নিয়ে একই টপিকে ইন্টারেস্টেড অন্যান্য ইউজারদের সাথে নির্দিধায় আলোচনা করতে পারবেন।

টেকনোলজি থেকে শুরু করে পপ কালচার, কমিকস, ফিল্ম, সাহিত্য, মিমস, ট্যাবু, কনফেশনস, র‍্যান্ডম জাজমেন্ট থেকে শুরু করে এমন খুব কম টপিক আছে, যে টপিক নিয়ে রেডিটে ডিসকাস করা হয় না। আপনার মনে যদি কখনো এমন কোন প্রশ্ন এসে থাকে যে প্রশ্নটা এতই স্টুপিড কিংবা এতই ক্রিঞ্জ যে আপনি কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারছেন না, এই প্রশ্নটা করার জন্য বেস্ট প্লেসটাই হচ্ছে রেডিট!

সাবরেডিট

রেডিট সম্পর্কে জেনে থাকলে আপনি এই টার্মটিও হয়তো অনেকবার শুনেছেন। রেডিটে থাকা বিভিন্ন টপিকের ওপরে এই ফোরামগুলোকে একটি সেন্ট্রাল সাবরেডিটের আন্ডারে রাখা হয়ে থাকে। যেমন- রেডিটে একটি সাবরেডিট আছে, যার নাম হচ্ছে Explain Like I’m 5। এই সাবরেডিটের আন্ডারে যত ছোট ছোট ফোরাম থাকবে, এই ফোরামে যদি আপনি কোন প্রশ্ন করেন, তাহলে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে যারা অভিজ্ঞ হবেন, তারা আপনাকে এত সহজভাবে উত্তর  দেবেন যেন আপনার বয়স ৫ বছর এবং আপনি কিছুই বোঝেন না। তেমনি, এই সাবরেডিটে অন্য কেউ যদি এমন কোন প্রশ্ন করেন, যে বিষয়ে আপনি নিজে অভিজ্ঞ, আপনি তাকে উত্তরটি সেভাবেই দেবেন যেন তার বয়স ৫ বছর।

এটাই হচ্ছে সাবরেডিট। ধরুন আপনি Explain Like I’m 5 নামের এই সাবরেডিটে সাবস্ক্রাইব করে রেখেছেন। তাহলে আপনি যখনই রেডিটে লগিন করবেন, আপনার হোমপেজে এই সাবরেডিটের সকল আপডেটগুলো দেখানো হবে। এই সাবরেডিটে নতুন কেউ কিছু জিজ্ঞেস করেছে কিনা, এই সাবরেডিটে আপনি যেসব ডিসকাশনে অংশ নিয়েছেন, সেসব ডিসকাশনে আপনার উত্তর বা আপনার মতামতের পড়ে নতুন কেউ আপনাকে রিপ্লাই দিয়েছে কিনা, আপনার উত্তরের কোন রিপ্লাই কেউ দিয়েছেন কিনা সেই সব আপডেটগুলো জানতে পারবেন।

ঠিক তেমনি আপনি যতগুলো সাবরেডিটে সাবস্ক্রাইব করে রেখেছেন, সব সাবরেডিটের আপডেট আপনি আপনার রেডিট হোমপেজে দেখতে পারবেন। তাই আপনি যদি আপনার ইন্টারেস্ট আছে এই ধরনের টপিকগুলোর সাবরেডিট সাবস্ক্রাইব করে রাখেন, তাহলে আপনি সম্পূর্ণ একটি পার্সোনালাইজড হোমপেজ পাবেন যেখানে সবকিছুই আপনার ইন্টারেস্টের সাথে যায়।

আর এই কারণেই রেডিট ব্যাবহার করলে আপনি আপনার ইন্টারেস্ট এবং আপনার টাইপের টপিকগুলোর ব্যাপারে আরও বেশি জানতে এবং জানাতে পারবেন। আর হ্যাঁ, যেমনটা বলেছি, এই টপিকগুলো খুব সাধারন থেকে শুরু করে খুবই ক্রিঞ্জ এবং ট্যাবু রিলেটেডও হতে পারে। You can never be too Stupid in Reddit!

আপভোট, ডাউনভোট এবং Karma

দিনশেষে রেডিট জাস্ট আরেকটি সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুকে একজন ইউজারের অনেক ফ্রেন্ডস থাকতে পারে, টুইটার এবং ইন্সটাগ্রামে থাকতে পারে ফলোয়ারস। কিন্তু রেডিটের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা লাইক কমেন্ট কিংবা ফলোয়ারের নয়। রেডিটে লাইক বা কমেন্ট বলতেই কিছু নেই।

রেডিটে লাইকের পরিবর্তে আছে আপভোট এবং ডাউনভোট। আপনার তৈরি করা কোন ফোরামে কিংবা রেডিটের অন্য যেকোনো ফোরামে অন্য কোন ইউজারের কোন প্রশ্ন বা কোন উত্তর যদি আপনার ভালো লাগে, তাহলে আপনি সেটাকে আপভোট দিতে পারবেন। আবার আপনার তৈরি করা কোন ফোরামে আপনার কোন প্রশ্ন বা উত্তরকে অন্যান্য ইউজাররা আপভোট বা ডাউনভোট দিতে পারবেন।

আপনি রেডিট কমিউনিটিতে কতটুকু কন্ট্রিবিউট করেছেন, সেটাই বোঝানো হয় আপনার আর্ন করা Karma এর মাধ্যমে। আপনি অন্যান্য ইউজারদের থেকে আপনার পোস্টে যত বেশি আপভোট পাবেন, আপনার Karma ততই বাড়বে। আবার অন্যান্য ইউজারদের থেকে যত বেশি ডাউনভোট পাবেন, আপনার Karma সেই অনুযায়ী কমতে থাকবে। এভাবেই মুলত ব্যালেন্স করা হয় রেডিট ইউজারদের Karma।

রেডিট ইউজারদের দুই ধরনের Karma থাকে। একটি হচ্ছে পোস্ট Karma, যা পোস্টে পাওয়া আপভোট এবং ডাউনভোট দিয়ে ব্যালেন্স করা হয় এবং আরেকটি হচ্ছে কমেন্ট Karma, যা কমেন্টে পাওয়া আপভোট এবং ডাউনভোটের রেশিও দ্বারা ক্যালকুলেট করা হয়। এমন না যে কোন রেডিট ইউজারের Karma অনেক কম হলে সে আর রেডিট ব্যাবহার করতে পারবে না কিংবা নতুন কোন পোস্ট এবং কমেন্ট করতে পারবে না। রেডিট Karma শুধুমাত্র রেডিট কমিউনিটিতে ইউজারের কন্ট্রিবিউশনকে রিপ্রেজেন্ট করে থাকে। আর একজন ইউজারের পোস্ট Karma এবং কমেন্ট Karma পাবলিকলি ইউজারের প্রোফাইলে দেখানো হয়।

অন্যান্য ফিচারস

আর শুধু এগুলোই নয়, রেডিটে আরও অনেক ফিচারস আছে, যেগুলো অ্যাক্টিভলি রেডিট ব্যাবহার করা শুরু করলে আপনি খুব দ্রুত জানতে পারবেন। যেমন- রেডিট এর ইন-হাউজ কারেন্সি, যার নাম রেডিট কয়েনস। আপনি রিয়াল কারেন্সি ব্যাবহার করে রেডিট কয়েনস পারচেজ করতে পারবেন এবং অন্যান্য রেডিট ইউজারদেরকে সেই কয়েন গিফটও করতে পারবেন, যাদের পোস্ট কিংবা কমেন্ট আপনার ভালো লাগবে। এছাড়া অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার মতো ডিরেক্ট চ্যাট অপশনও আছে রেডিটে, যা ব্যাবহার করে আপনি অন্যান্য রেডিট ইউজারদের সাথে ব্যাক্তিগতভাবে চ্যাট করতে পারবেন। তবে রেডিট চ্যাট ফিচারটি তেমন কেউ ব্যাবহার করেনা।

যদি আপনি অন্যান্য ফিচারস বাদও রাখেন, সত্যি কথা বলতে রেডিট নিজেদেরকে যে The Front Page to the Internet বলে থাকে, এই ট্যাগলাইনটি খুবই যুক্তিযুক্ত। আপনি যদি রেডিট ইউজার নাও হন, আপনি রেডিটের হোমপেজ ভিজিট করলে ওইদিন ইন্টারনেটের মোস্ট পপুলার ট্রেন্ড, মিমস, ডিসকাশনস এবং রিসেন্ট অ্যাফেয়ারস সম্পর্কে কিছুটা অভারঅল ধারণা পাবেন, অনেকটা নিউজ ওয়েবসাইটের মতো (কিন্তু অনেক বেটার!)। তবে, পার্থক্য হচ্ছে রেডিটে আপনি শুধু নিউজই নয়, আরও অনেক কিছুই পাবেন যেগুলো কোন নিউজ ওয়েবসাইটে কিংবা অন্য কোন সোশ্যাল মিডিয়াতে পাবেন না (যেমনটা প্রথমেই বলেছি)। আর, রেডিটে একইসাথে আপনি এসব ব্যাপারে অন্যান্য ইউজারদের মতামতও জানতে পারবেন।

এই ছিলো রেডিট বা ইন্টারনেটের ফ্রন্ট পেজের একটি অভারঅল ফিচারস ওভারভিউ। অবসর সময়ে রেডিট ভিজিট করার অভ্যাস করেই নিতে পারেন। আশা করি বেশ ভালো সময় কাটাতে পারবেন, অন্তত ফেসবুক ব্রাউজ করার থেকে অবশ্যই অনেক বেটার। তবে হ্যাঁ, রেডিট ভিজিট করার সময় সেখানে  অন্যান্য বাংলাদেশি ইউজার খোঁজার চেষ্টা না করাই ভালো। কারণ, বাংলাদেশের  অর্ধেকের বেশি ইন্টারনেট ইউজার, ফেসবুক , ইমো এবং ইউটিউবের বাইরে যে কোন সোশ্যাল মিডিয়া আছে, সেটাই জানে না । আর হ্যাঁ ,রেডিট ব্রাউজ করার আগে অবশ্যই মনে রাখবেন, You can never be too stupid in Reddit!

Author

jakirahmed

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *